২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বাউন্ডারি ওয়াল ও সাইকেল স্ট্যান্ড নির্মাণে বাধা, রাজনৈতিক যোগসাজশের অভিযোগে চাঞ্চল্য।
তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি | ২৫ শে জানুয়ারি: বর্তমান সরকার রাজ্যে শিক্ষার পরিকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিলেও বাস্তব চিত্র যেন অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মিলছে না। স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সুসংগঠিত ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে যেখানে একের পর এক প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে, ঠিক সেখানেই ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মাইগঙ্গা সুকান্ত দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে ঘটল এক চরম বিতর্কিত ঘটনা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ওই বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি ওয়াল এবং সাইকেল স্ট্যান্ড নির্মাণের কাজ চলছিল। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থেই এই নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু রবিবার হঠাৎ করেই পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, রবিবার কয়েকজন যুবক বিদ্যালয় চত্বরে এসে প্রথমে নির্মাণ কাজের ম্যানেজারের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরবর্তীতে কোনও স্পষ্ট কারণ না দেখিয়েই নির্মাণ কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এই ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ২৯ কৃষ্ণপুর মণ্ডলের সহ-সভাপতি গোপাল দাস। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজেই সরাসরি নির্দেশ দিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—কেন এই নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হলো, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত নির্দেশ, সরকারি নোটিস বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—নির্মাণ কাজের গুণগত মান নিয়ে কি কোনও সমস্যা ছিল, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও অজানা রহস্য?
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। স্থানীয় মহলে জোর আলোচনা চলছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই কি এই নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়েছে? এমনকি অনেকের সন্দেহ, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার ঘনিষ্ঠ মহলের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বাহাদুর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন? প্রশাসনিক স্তরে কি কোনও তদন্ত শুরু হবে, নাকি বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যাবে—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকাবাসী।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষ। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, শিক্ষার উন্নয়নের পথে কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না। বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজে এভাবে হস্তক্ষেপ ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মত তাঁদের।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে শিক্ষাবিরোধী চক্রান্ত বলে আখ্যা দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র আকার নিতে পারে এবং বড়সড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
