ডিআরআই ও ২৮ নম্বর আসাম রাইফেলসের যৌথ অভিযানে সাফল্য, তেলিয়ামুড়া থানার নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরা | ২৫ জানুয়ারী । রিপোর্ট-হিরন্ময় রায়ঃ বহিঃরাজ্য থেকে রাজ্যে অবাধে ঢুকছে নেশা সামগ্রী—জাতীয় সড়ককে প্রধান করিডোর বানিয়ে রমরমিয়ে চলছে মাদক বাণিজ্য। অথচ স্থানীয় থানার ভূমিকা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে জনমনে। ঠিক এমনই এক প্রেক্ষাপটে শনিবার রাতে তেলিয়ামুড়া এলাকায় বড়সড় সাফল্য পেল ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI) এবং ২৮ নম্বর ব্যাটেলিয়ান আসাম রাইফেলস।
শনিবার রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ তেলিয়ামুড়া জাতীয় সড়কের তুইসিন্দ্রাই এলাকায় এক যৌথ অভিযানে ১৬ কোটি টাকারও বেশি বাজার মূল্যের ইয়াবা ট্যাবলেট সহ এক কুখ্যাত নেশাকারবারিকে আটক করা হয়। ধৃত নেশাকারবারির নাম নুরুল ইসলাম। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসামের করিমগঞ্জ জেলার বাকর্শল এলাকায় বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ডিআরআই ও ২৮ নম্বর আসাম রাইফেলসের কাছে আগেই গোপন সূত্রে খবর ছিল যে আসামের করিমগঞ্জ জেলা থেকে একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক—নম্বর AS01LC4657—এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ নেশা সামগ্রী তেলিয়ামুড়া জাতীয় সড়ক ধরে রাজ্যে প্রবেশ করতে চলেছে। সেই নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেল থেকেই তেলিয়ামুড়া জাতীয় সড়কের তুইসিন্দ্রাই এলাকায় ওঁত পেতে বসে থাকেন ডিআরআই ও আসাম রাইফেলসের জওয়ানরা।
রাতের দিকে সিমেন্ট বোঝাই গাড়িটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতেই গাড়িটিকে আটক করা হয়। এরপর চালানো হয় তল্লাশি অভিযান। তল্লাশির সময় চালকের কেবিন থেকে উদ্ধার হয় মোট ১৬ কেজি ইয়াবা ট্যাবলেট, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৬ কোটি টাকারও বেশি বলে ডিআরআই সূত্রে জানানো হয়েছে।
অভিযান শেষে নেশাকারবারি নুরুল ইসলামকে আটক করে ডিআরআই ও আসাম রাইফেলসের জওয়ানরা। পরবর্তী সময়ে ডিআরআই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে একটি মামলা রুজু করে। মামলার নম্বর 09/NDPS/DRI/AGT/2025-26।
রবিবার অভিযুক্ত নুরুল ইসলামকে খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালতে পেশ করা হলে মাননীয় আদালত তাকে দুদিনের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ২৭ জানুয়ারী তাকে পুনরায় আদালতে তোলা হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে, এত বড় মাপের নেশা চালান জাতীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ, তেলিয়ামুড়া থানা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই নেশাকারবারিরা অবাধে তাদের কালোবাজারি চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এই ঘটনায় তেলিয়ামুড়া থানার ভূমিকা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহ—নীরবতার আড়ালে কি লুকিয়ে আছে অন্য কোনও বড় কারণ? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে গোটা এলাকাজুড়ে।
