বসার ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ, প্রশাসনের নীরবতা ঘিরে প্রশ্ন।
তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি: খোয়াই জেলাশাসকের উদ্যোগে মঙ্গলবার কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের চাকমাঘাট ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘ডি.এম জনতার দরবার’। এই কর্মসূচির সার্বিক আয়োজন করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসন।
খোদ মহকুমা শাসক অপূর্ব কৃষ্ণ চক্রবর্তী নিজে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানালেও, অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে চরম অব্যবস্থা ও অপমানজনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের। মঞ্চ প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের জন্য কোনও বসার ব্যবস্থা না থাকায়, বাধ্য হয়ে মাটিতে বসেই সংবাদ সংগ্রহ ও কভারেজ করতে হয় তাঁদের।
অভিযোগ উঠেছে, জেলা শাসকের দপ্তরে কর্মরত এক সরকারি কর্মচারী রতন কলই সংবাদ সংগ্রহে ব্যস্ত সাংবাদিকদের তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সাংবাদিকদের কাজে বিঘ্ন ঘটে এবং অপমানের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এই পুরো ঘটনার সাক্ষী থেকেও চেয়ারে বসে থাকা জেলাশাসক, মহকুমা শাসকসহ অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা ছিলেন সম্পূর্ণ নীরব। কেউই সাংবাদিকদের এই দুরবস্থার দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রতি এমন আচরণ প্রশাসনের দায়িত্ববোধ ও মানসিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। যেখানে জনতার সমস্যা শোনার জন্য ‘জনতার দরবার’, সেখানে সেই সমস্যার কথা জনতার কাছে পৌঁছে দেওয়া সাংবাদিকরাই পড়লেন অবহেলার শিকার।
এই ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। একই সঙ্গে জনতার দরবারে আসা সাধারণ মানুষও পড়েছেন দুর্ভোগে। প্রখর রোদে কোনও ছাউনি না থাকায় দাঁড়িয়েই পরিষেবা নিতে বাধ্য হন তাঁরা। মহারানীপুর এলাকার এক বৃদ্ধা মহিলা সংবাদমাধ্যমকে জানান—
“এই পরিস্থিতিতে আমাদের অনেকটাই অসুবিধা হচ্ছে।”
এখন প্রশ্ন উঠছে—এই অব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রশাসন নেবে কি না, নাকি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে? জনতার দরবারে জনতা ও সাংবাদিকদের প্রতি এমন অবহেলা নিঃসন্দেহে প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
