অনাবাদি পাহাড়ি জমিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজে লাগাতে তেলিয়ামুড়ায় একদিনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা।
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরাঃ
ত্রিপুরা রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী পাহাড়ের আধিক্যতা অত্যন্ত বেশি। রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে পাহাড়, টিলা ও দুর্গম বনাঞ্চল থাকায় স্বাভাবিকভাবেই বহু জমি এখনো পর্যন্ত অনাবাদি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব—এই সমস্ত কারণেই পাহাড়ি এলাকার বহু জমি আজও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের আওতায় আসেনি।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সময়ে সময়ে পাহাড়ি ও অনাবাদি জমির উপর পাট্টা প্রদান করার প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের হাতে জমির অধিকার তুলে দিয়ে তাঁদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধন করা। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, পাট্টা প্রদান করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রাপকেরা সেই জমি কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছেন, কিংবা সেই জমিকে কাজে লাগিয়ে আদৌ কতটা অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা অর্জন করতে পারছেন—তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এই পাট্টা জমিগুলিকে বৈজ্ঞানিক পন্থা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটেই আজ তেলিয়ামুড়া চিত্রাঙ্গদা কলা কেন্দ্রে এক গুরুত্বপূর্ণ একদিনের কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
এই কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের চেয়ারপারসন রূপক সরকার। পাশাপাশি খোয়াই জেলার জেলা শাসক রজত পান্থ, আইএএস সহ বন দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ আধিকারিক, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় মূলত পাট্টা জমির যথাযথ ব্যবহার, বহুমুখী কৃষি পরিকল্পনা এবং পাহাড়ি জমিতে টেকসই কৃষি মডেল গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র জমির মালিকানা দিলেই চলবে না, সেই জমিকে কীভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা যায়—তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মূল দায়িত্ব।
এই কর্মশালা থেকে সকল পাট্টাধারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যেন তাঁরা তাঁদের প্রাপ্ত জমিগুলিকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারেন। আলোচনায় উঠে আসে, বর্তমানে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাবার চাষের পাশাপাশি সীমিত আকারে পাট্টা জমিতে অন্যান্য কৃষিজ ফসল ও বিভিন্ন ফলের চারা রোপণ করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত অর্থে এই উদ্যোগকে আরও বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
বক্তারা আরও জানান, পাহাড়ি জমিতে ফল চাষ, মিশ্র কৃষি ব্যবস্থা, ঔষধি গাছের চাষ এবং বনভিত্তিক জীবিকা উন্নয়নের মতো বিকল্প পদ্ধতিগুলি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে পাট্টা জমিই হয়ে উঠতে পারে গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি।
কর্মশালার শেষ পর্যায়ে সরকার, বনবিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সকল পরিকল্পনা যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব রূপ পায়—সেই লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান ধ্বনিত ও প্রতিধ্বনিত হয় আজকের এই একদিনের কর্মশালা থেকে।
