তেলিয়ামুড়া থানাধীন কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহারানী এলাকায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা; আইন নিজের হাতে তোলায় সতর্কবার্তা পুলিশের।
তেলিয়ামুড়া, প্রতিনিধি: তেলিয়ামুড়া থানাধীন কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মহারানী এলাকায় শুক্রবার দুপুরে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ও লজ্জাজনক ঘটনা। পরকীয়া সন্দেহকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে অপমান ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক পরিসরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জয়দ্বীপ রায় পেশায় একজন টমটম চালক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মহারানীপুর এলাকার এক বিবাহিত মহিলাকে নিয়মিত টমটমে করে আনা-নেওয়া করতেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই কানাঘুষো চলছিল। শুক্রবার এই খবর মহিলার স্বামীর কানে পৌঁছতেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার দুপুরে ওই মহিলার স্বামী অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে তাঁকে পাকড়াও করে প্রকাশ্য রাস্তায় নিয়ে আসা হয়। অভিযোগ, সেখানে তাঁর মাথার অর্ধেক চুল মুন্ডন করে দেওয়া হয় এবং মুখে কালো কালি মেখে অপমান করা হয়। শুধু তাই নয়, শারীরিকভাবে মারধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমায় উৎসুক মানুষজন। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তেলিয়ামুড়া থানা-র পুলিশ। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত স্বামী ও জয়দ্বীপ রায়—উভয়কেই আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে থানায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তবে এই ঘটনার পেছনে প্রকৃত সত্য কী, আদৌ কোনও পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল কি না, না কি ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এমন অপমানজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সামাজিক অবক্ষয়, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশের স্পষ্ট বক্তব্য—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও অধিকার কারও নেই। কেউ অপরাধ করে থাকলে তার বিচার আইনের পথেই হওয়া উচিত।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই আসল সত্য সামনে আসবে বলে আশাবাদী প্রশাসন। আপাতত গোটা মহারানী এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
