পেট্রোল ৩০০ টাকা লিটারেও বিক্রি! গ্যাস এজেন্সি ও পাম্পে দীর্ঘ লাইন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরা। রিপোর্ট- হিরণ্ময় রায় । ১৯ মেঃ তেলিয়ামুড়া শহরে এখন যেন দুর্ভোগই নিত্যসঙ্গী। একদিকে ভাঙাচোরা সড়ক, অন্যদিকে জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় কালোবাজারি চক্র—এই দুইয়ের চাপে কার্যত দিশেহারা সাধারণ মানুষ। প্রশাসনিক নীরবতা এবং অব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তেলিয়ামুড়া মহকুমার হাজার হাজার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার কাকভোর থেকেই তেলিয়ামুড়া শহরের গ্যাস এজেন্সি এবং মহারানীপুর পেট্রোল পাম্পের সামনে উপচে পড়ে মানুষের ভিড়। অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ব্যাহত হচ্ছে পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ। ফলে মহকুমার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পেই দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট।
কিন্তু এই সংকটকেই হাতিয়ার করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাংশ অসাধু কালোবাজারি চক্র। অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বোতলবন্দি পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দামে। অথচ সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রায় ১০৩ টাকার আশেপাশে। প্রকাশ্যেই চলছে এই অবৈধ কারবার, কিন্তু প্রশাসনের তরফে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
অভিযোগের আঙুল উঠছে মহকুমা শাসক অপূর্ব কৃষ্ণ চক্রবর্তী, মহকুমা প্রশাসন এবং খাদ্য দপ্তরের দিকেও। স্থানীয়দের দাবি, কালোবাজারি রুখতে কার্যকর অভিযান বা কড়া নজরদারির অভাবেই পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
দীর্ঘ দু’দিন পর মহারানীপুর পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি পৌঁছাতেই শুরু হয় হুড়োহুড়ি। মোটরবাইক, অটো এবং যাত্রীবাহী গাড়ির দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে সকাল থেকেই। তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও স্বস্তি মিলছে না সাধারণ মানুষের।
অন্যদিকে শহরের একমাত্র গ্যাস এজেন্সির সামনেও একই চিত্র। কাঠফাটা রোদে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক গ্রাহককে শুনতে হচ্ছে—“ইন্টারনেট নেই”, “এখন হবে না, পরে আসুন”। ফলে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ। কাজ ফেলে দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। এতে যেমন বন্ধ হচ্ছে রোজগার, তেমনি সংসারে বাড়ছে আর্থিক চাপ।
দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেখানে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি করছেন, সেখানে তেলিয়ামুড়ার বাস্তব পরিস্থিতি যেন সম্পূর্ণ উল্টো ছবি তুলে ধরছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসন কি এখনও নীরব দর্শকের ভূমিকাতেই থাকবে? নাকি কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে মাঠে নামবে? সেই উত্তর খুঁজছে তেলিয়ামুড়ার মানুষ।
