জিআরপি কনস্টেবল যতীন্দ্র দাশের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় গাঁজা । বিলোনিয়া রেল স্টেশন চত্বরে গাঁজা কাণ্ডে ধৃতের পলায়নের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। এই ঘটনায় এবার গ্রেপ্তার হলেন বিলোনিয়া জিআরপি থানারই এক পুলিশ কনস্টেবল। ধৃত কনস্টেবলের নাম যতীন্দ্র দাস। টাকার গন্ধে গাঁজা বেপারির পলায়নের পর বুধবার রাতে আগরতলা থেকে আসা জিআরপি-র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তল্লাশিতে তার থানার আবাসন থেকে গাঁজা উদ্ধারের পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদমাধ্যমে খবর সম্প্রচারের পরই নড়েচড়ে বসে আরক্ষা দপ্তর। বুধবার দুপুরে ধৃত কনস্টেবলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে বিলোনিয়া রেল স্টেশন চত্বরে TR07G02267 নম্বরের একটি সাদা গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ব্যাগ থেকে কয়েক কেজি গাঁজা উদ্ধার করে জিআরপি পুলিশ। গাড়িতে থাকা চারজনের মধ্যে তিনজন পালিয়ে গেলেও গাঁজা সহ একজনকে আটক করে জিআরপির রুমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আটকের কিছুক্ষণ পর বিলোনিয়া থানার এক পুলিশ অফিসার ও এক আইবি কর্মী ঘটনাস্থলে এসে ধৃত ও গাঁজার ব্যাগ জিআরপি থানায় নিয়ে যান সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের সামনে থেকে রহস্যজনকভাবে পালিয়ে যায় ধৃত যুবক। অভিযোগ, পালানোর সময় পুলিশ তাকে আটকানোর জন্য কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এই ঘটনার খবর সম্প্রচারিত হতেই রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়।খবর সম্প্রচারের পর তৎপর হয় আরক্ষা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রাতেই আগরতলা জিআরপি থানার ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা বিলোনিয়ায় পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালাতে গিয়ে বিলোনিয়া জিআরপি থানার কনস্টেবল যতীন্দ্র দাসের থানার আবাসনের রুম থেকে গাঁজা উদ্ধার হয়। অভিযোগ মাধ্যমেই ওর যে কীপ্যাড মোবাইল সেটা দিয়ে বিভিন্ন ড্রাগস মাপি এদের সাথে কথা বলতেন এবং সহযোগিতা করতেন ওদের। এ ধরনের তথ্য প্রকাশ হতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।জিআরপি থানার তদন্তকারী অফিসার সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার দুপুরে ধৃত কনস্টেবল যতীন্দ্র দাসকে বিলোনিয়া আদালতে সোপর্দ করেন। এর আগে এই ঘটনায় বিলোনিয়া থানার এসআই প্রেমজিৎ রায় ও আইবি নেপাল নমঃর বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে ধৃতকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। যদিও তারা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত কাজে স্টেশনে গিয়েছিলেন। কনস্টেবল গ্রেপ্তারের পর গোটা ঘটনার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকেই তাকিয়ে সকলে, সূত্রের খবর থানার বাবুদের সাথে জি আর পি পুলিশ ও গোয়েন্দার অন্যান্য কনস্টেবল ও আধিকারিকদের সাথে বিলিবন্টনের অভিযোগ রয়েছে । অর্থ পিপাসু সকলে মিলে মুখ্যমন্ত্রীর নেশা বিরোধী অভিযানকে ত্বরান্বিত করে নেশা যুক্ত ত্রিপুরা গড়ার ডাক দিয়েছেন। এই ধরনের প্রশাসনিক লোকদের গুণে প্রতিনিয়ত রাজ্যজুড়ে নেশার কারবার উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অন্যদিকে যুবসমাজ নেশার অতলে তলিয়ে যাচ্ছে।
