সাচিরামবাড়ি পার্ক বাজারে আইপিএফটি দক্ষিণ জেলা কমিটির উদ্যোগে মিছিল ও বিশাল প্রকাশ্য জনসভা। বিভিন্ন দল থেকে ৪৭ পরিবারের ১৬৫ ভোটার আইপিএফটিতে যোগ দিয়ে পৃথকী তিপ্রাল্যান্ড আন্দোলনকে আরও জোরদার করলেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, জোলাইবাড়ি : ত্রিপুরার রাজনীতিতে আবারও আইপিএফটি-র (Indigenous People’s Front of Tripura) সংগঠনিক শক্তির জোরালো প্রদর্শন ঘটলো জোলাইবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে। পৃথকী তিপ্রাল্যান্ডের দাবিকে আরও জোরালো করতে আইপিএফটি দক্ষিণ জেলা কমিটির উদ্যোগে সাচিরামবাড়ি পার্ক বাজারে বিশাল জনজোয়ারে মিছিল ও প্রকাশ্য জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলটি শুরু হয় সাচিরামপাড়া থেকে। এরপর তা ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক পরিক্রমণ করে বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে অবশেষে সাচিরাম পার্ক বাজারে এসে বিশাল প্রকাশ্য সভায় মিলিত হয়। স্থানীয় মানুষজন, কর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন এলাকার গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে সমগ্র এলাকাটি উৎসবের আবহে পরিণত হয়।
প্রকাশ্য সভার সূচনাতেই উপস্থিত নেতৃত্বরা স্বর্গীয় এনসি দেববর্মার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সভার কাজ শুরু করেন।
আজকের এই ঐতিহাসিক সভার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে ৪৭ পরিবারের মোট ১৬৫ জন ভোটার আনুষ্ঠানিকভাবে আইপিএফটি দলে যোগ দেন। নবাগত সদস্যদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তাঁদের দলে স্বাগত জানান আইপিএফটি সেন্ট্রাল কমিটির সহ-সভাপতি কৃষ্ণকান্ত জমা দিয়েতিয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি স্বপন দেববর্মা, যুব সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মানিক ত্রিপুরা, শান্তির বাজার ডিভিশনাল কমিটির সভাপতি জ্যোতিলাল রিয়াং, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি হরিনাথ ত্রিপুরা এবং জিতিরাম ত্রিপুরা প্রমুখ নেতৃত্বরা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইপিএফটি দলের এজিএস স্বপন দেববর্মা বলেন, “বিজেপি–আইপিএফটি জোট সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু সমতল এলাকার উন্নয়ন নয়, এডিসি এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটানোও আমাদের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। আইপিএফটি কখনও জনগণকে বিভ্রান্ত করে রাজনীতি করে না। তাই যারা একসময় বিভ্রান্ত হয়ে দল ছেড়েছিলেন, আজ তাঁরাই আবার দলে ফিরে আসছেন।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতির আসল লক্ষ্য চেয়ার দখল নয়, মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া। জনগণের জন্য কাজ করার মানসিকতা থাকলেই আইপিএফটিতে স্থান পাওয়া যায়।”
সভায় উপস্থিত নেতৃত্বরা জানান, আইপিএফটি বরাবরই ত্রিপুরার জনজাতি জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের জন্য কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও পৃথকী তিপ্রাল্যান্ড গঠনের দাবি নিয়ে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।
আজকের মিছিল এবং প্রকাশ্য সভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরুষ, মহিলা ও যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক রাজনৈতিক মহাসমাবেশে।
সভা শেষে “লং লিভ আইপিএফটি” ও “উই ওয়ান্ট টিপ্রাল্যান্ড” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র সাচিরামবাড়ি পার্ক বাজার এলাকা।
