‘পিলাক প্রত্ন ও পর্যটন উৎসব ২০২৬’
শান্তির বাজারে তিনদিনব্যাপী পিলাক উৎসবের উদ্বোধন করলেন রাজ্যপাল ও মন্ত্রী—জাতি-জনজাতির মিলনমেলায় উৎসবমুখর দক্ষিণ ত্রিপুরা
শান্তির বাজার প্রতিনিধি: বাহাদুর ত্রিপুরা দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তির বাজারে সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের বার্তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো “পিলাক প্রত্ন ও পর্যটন উৎসব ২০২৬”। আগামী ৭ই জানুয়ারি থেকে ৯ই জানুয়ারি—এই তিনদিন ব্যাপী চলবে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা ও উৎসব। উৎসবের উদ্বোধন করেন ত্রিপুরা রাজ্যের রাজ্যপাল ইন্দ্রসেন রেড্ডি নাল্লু এবং মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, শিল্পী ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফিতা কেটে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন অতিথিরা। উদ্বোধনের পর থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নামে এবং উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।
এই পিলাক উৎসবে জাতি ও জনজাতির মিলন এক অনন্য রূপ নিয়েছে। পাহাড় ও সমতলের মানুষের অংশগ্রহণে গোটা মেলাপ্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে এক সম্প্রীতির মিলনমেলায়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, পোশাক, নৃত্য ও সংগীত একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়ে উৎসবকে করে তুলেছে আরও রঙিন ও প্রাণবন্ত।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, “যেখানে শান্তি থাকে, সেখানেই মানুষের মনে আনন্দ আসে। এই পিলাক মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি একতা ও সম্প্রীতির প্রতীক। এই ধরনের উৎসব সমাজের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আরও দৃঢ় করে।” তিনি আরও বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমে ত্রিপুরার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেন রেড্ডি নাল্লু তাঁর বক্তব্যে বলেন, পিলাক প্রত্নস্থল ত্রিপুরার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অমূল্য সম্পদ। এই উৎসবের মাধ্যমে প্রাচীন সভ্যতা, শিল্পকলা ও ধর্মীয় সহাবস্থানের যে নিদর্শন পিলাকে পাওয়া যায়, তা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই ধরনের উৎসব আয়োজনের জন্য রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে সাধুবাদ জানান।
মেলাকে ঘিরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের একাধিক স্টল খোলা হয়েছে। পর্যটন, হস্তশিল্প, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, খাদ্যদ্রব্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক স্টলগুলি দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ কেড়েছে। স্টলগুলি ঘুরে দেখেন রাজ্যপাল ও মন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিরা এবং প্রদর্শিত সামগ্রী সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
উল্লেখ্য, পিলাক মেলা (Pilak Festival) ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী প্রত্ন ও পর্যটন উৎসব, যা এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ হিন্দু ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। প্রাচীন পিলাক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে অলোকিতেশ্বর, নরসিংহ মূর্তি, টেরাকোটা শিল্পসহ একাধিক ঐতিহাসিক নিদর্শন আজও অতীতের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। এই উৎসবের মাধ্যমে সেই ইতিহাস, স্থানীয় সংস্কৃতি ও শিল্পকলাকে আরও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকনৃত্য, সংগীত, ঐতিহ্যবাহী খাবার, শিল্প প্রদর্শনী ও নানা আকর্ষণীয় কার্যক্রমে ভরপুর এই পিলাক প্রত্ন ও পর্যটন উৎসব প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং ক্রমশ পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সবমিলিয়ে, সম্প্রীতির বার্তা ও ঐতিহ্যের গৌরব নিয়ে শুরু হওয়া পিলাক প্রত্ন ও পর্যটন উৎসব ২০২৬ শান্তির বাজার তথা দক্ষিণ ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে আরও এক উজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করলো বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
