দৃষ্টিতে ফিরল নতুন আলো — তেলিয়ামুড়ায় প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ ক্লাবের উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি অপারেশন শিবির
অর্থের অভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক উদ্যোগ; শতাধিক মানুষের চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা
হিরণময় রায়ঃ তেলিয়ামুড়া মহকুমার দুস্থ, গরিব ও অসহায় মানুষের কাছে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এক উল্লেখযোগ্য ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করল খোয়াই জেলার অন্যতম স্বনামধন্য সামাজিক সংগঠন প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ ক্লাব। সংগঠনের উদ্যোগে রবিবার তেলিয়ামুড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের বি.আর.সি. হলঘরে এক বৃহৎ পরিসরের, দিনব্যাপী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চোখের ছানি অপারেশন শিবির অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই শিবির প্রাঙ্গণে ভিড় লক্ষ্য করা যায়, যেখানে বিভিন্ন গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আগত মানুষজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
এই মহকুমার বহু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এখনও এমন অসংখ্য মানুষ বসবাস করেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চোখের নানাবিধ সমস্যায় ভুগলেও চরম আর্থিক দুরবস্থার কারণে উপযুক্ত চিকিৎসা করাতে পারছেন না। বিশেষ করে চোখের ছানি—যা একটি সাধারণ হলেও ব্যয়বহুল চিকিৎসা হওয়ায় বহু প্রবীণ নাগরিক ও দরিদ্র মানুষ ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। সেই সব অসহায় মানুষের চোখে নতুন আলো ফেরানোর লক্ষ্যেই এই জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ ক্লাব।
রবিবার প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ ক্লাব ও রাজধানীর স্বনামধন্য অশ্বিনী নেত্রালয়-এর যৌথ উদ্যোগে অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে প্রায় এক শতাধিক মানুষের চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের পর যেসব রোগীর চোখের ছানি অপারেশন জরুরি বলে চিহ্নিত হয়, তাঁদের ক্লাবের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অশ্বিনী নেত্রালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোগীদের যাতায়াত, থাকা, অপারেশন এবং চিকিৎসা-পরবর্তী সমস্ত ব্যয় ক্লাবের তরফ থেকেই বহন করা হয়েছে। এমনকি অপারেশন শেষে রোগীরা সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাঁদের নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
শিবির চলাকালীন চিকিৎসকদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যরা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা করেন। রোগীদের নাম নথিভুক্ত করা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সারিবদ্ধভাবে চিকিৎসা গ্রহণের সুষ্ঠু ব্যবস্থা, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অক্ষম রোগীদের বিশেষ সহায়তা প্রদান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ক্লাব সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত হয়।
এই সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ ক্লাবের সম্পাদক পিন্টু দাস, সভাপতি সঞ্জিত কুমার দাস সহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। তাঁরা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য ও আদর্শ। ভবিষ্যতেও এই ধরনের স্বাস্থ্য শিবির ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি আরও বৃহৎ পরিসরে অব্যাহত থাকবে বলে তাঁরা আশ্বাস দেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ ক্লাব দীর্ঘদিন ধরেই সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিগত বছরেও ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত অনুরূপ চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে মোট ১৯ জন সুবিধাভোগী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনের সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবছরের এই বৃহৎ শিবিরও তেলিয়ামুড়া এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বমহলে।
