বামুটিয়ার কন্যা নীহারিকা দে
৪৪তম জাতীয় যোগা প্রতিযোগিতায় অভাবনীয় সাফল্য; পড়াশোনা ও খেলাধুলা—উভয় ক্ষেত্রেই অনন্য মেধার স্বাক্ষর রাখল বেড়ীমুড়ার কন্যা
নিজস্ব প্রতিনিধি, বামুটিয়া, ৫ জানুয়ারী:সীমিত সাধ্যের মধ্যে থেকেও যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো যায়, তার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করল ত্রিপুরার কন্যা নীহারিকা দে। অন্ধ্রপ্রদেশের পবিত্র ভূমি জিলাল্লামুদীতে আয়োজিত ৪৪তম জাতীয় যোগা প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয় করে কেবল বামুটিয়া নয়, সমগ্র ত্রিপুরা রাজ্যের নাম জাতীয় স্তরে উজ্জ্বল করেছে এই কিশোরী। তার এই সাফল্যে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে গোটা এলাকায়।
ইন্ডিয়ান যোগা ফেডারেশনের উদ্যোগে গত ২৭, ২৮ এবং ২৯ ডিসেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের জিলাল্লামুদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৪৪তম জাতীয় যোগা প্রতিযোগিতা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কয়েকশ প্রতিযোগীর ভিড়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে নীহারিকা। সে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়স বিভাগে অংশগ্রহণ করে বিচারকদের মুগ্ধ করে এবং প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নেয়।
নীহারিকা দে বামুটিয়া বিধানসভার কালীর বাজার সংলগ্ন বেড়ীমুড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে বর্তমানে বেড়ীমুড়া উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। তবে কেবল যোগাভ্যাসেই নয়, পাঠ্যবইয়ের জগতেও সে সমানে পারদর্শী। বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার মেধা তালিকায় নীহারিকা প্রথম স্থান অর্জন করেছে। খেলাধুলা ও পড়াশোনার এই মেলবন্ধন তাকে অন্যান্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
নীহারিকার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তার বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ। তার বাবা বিষ্ণু দে কালীর বাজারে একজন সাধারণ মুদিমালের ব্যবসায়ী এবং মা তনুশ্রী দে মজুমদার একজন নিবেদিতপ্রাণ গৃহবধূ। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মেয়ের প্রতিভাকে বিকশিত করতে তাঁরা কোনও খামতি রাখেননি। অভিভাবক হিসেবে তাঁদের এই নিরলস উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা আজ নীহারিকাকে জাতীয় মঞ্চে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট এনে দিয়েছে।
নীহারিকার এই ঐতিহাসিক জয়ের খবর বামুটিয়ায় পৌঁছাতেই এলাকায় খুশির লহর ছড়িয়ে পড়ে। আজ সকালে বামুটিয়া স্থিত নীহারিকার বাসভবনে গিয়ে তাকে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয়। গোমতী জেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সমীর দাস এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী বাদল চন্দ্র দাস নীহারিকার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও পুষ্পস্তবক তুলে দেন।
উপস্থিত অতিথিরা নীহারিকার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, “একটি প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ পরিবারের কন্যা আজ জাতীয় স্তরে স্বর্ণপদক জয় করেছে, এটি আমাদের সবার জন্য গর্বের। আমরা আশা করি আগামী দিনে সে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও দেশের তেরঙা পতাকা উত্তোলন করবে।”
অধ্যবসায়, নিষ্ঠা এবং নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনও বাধা অতিক্রম করা সম্ভব—নীহারিকা দে আজ যেন সেই বার্তাই পৌঁছে দিল সবার কাছে। তার এই কৃতিত্ব ত্রিপুরার উদীয়মান ক্রীড়াবিদ ও ছাত্রছাত্রীদের কাছে দীর্ঘকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। স্বর্ণকন্যা নীহারিকার হাত ধরে ত্রিপুরার যোগা চর্চা আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে, এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা।
