বিদ্যুৎ বিলের বোঝা কমাতে ও বিকল্প শক্তির ব্যবহার বাড়াতে ছাদে ছাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ডাক
শান্তির বাজার প্রতিনিধি: জনসাধারণের বিদ্যুৎ বিলের চাপ লাঘব করা এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প শক্তির ব্যবহার আরও বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে শান্তিরবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল কেন্দ্রীয় সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনমুখী প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফ্ত বিজলি যোজনা’। আজ শান্তিরবাজারের পুরাতন বিওসি-র বিপরীতে অবস্থিত গণপতি সোলার এজেন্সিতে এক অনাড়ম্বর কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন শান্তিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বা ‘অন-গ্রিড সোলার প্ল্যান্ট’ স্থাপন করে প্রতিটি পরিবারকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভর করে তোলা। এর ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, তেমনি অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে সবুজ শক্তির দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং বলেন, এই যোজনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। তিনি জানান, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ পরিবারগুলো প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুযোগ পাবে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে তা গ্রিডে সরবরাহ করে বাড়তি আয়ের পথও খুলে যাবে।”
অনুষ্ঠানে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়, এই প্রকল্পের আওতায় সৌর প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য সরকারিভাবে আকর্ষণীয় ভর্তুকির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে—
-
১ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্ল্যান্টের জন্য ৩৩,০০০ টাকা ভর্তুকি,
-
২ কিলোওয়াট পর্যন্ত প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে ৬৬,০০০ টাকা সরকারি সহায়তা,
-
এবং ৩ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার প্ল্যান্ট স্থাপনে সর্বোচ্চ ৮৫,৮০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হবে।
এছাড়াও গৃহ আবাসন বা রেসিডেন্সিয়াল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর জন্য প্রতি কিলোওয়াটে ১৮,৯০০ টাকা হারে ভর্তুকির সুবিধা থাকছে।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, সোলার প্ল্যান্ট বসানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বড় অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগের চিন্তা করতে হবে না। কারণ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজ কিস্তিতে ঋণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরো মাতা স্বপ্না বৈদ্য, বিশিষ্ট সমাজসেবী দেবাশীষ ভৌমিক, গণপতি সোলার এজেন্সির মালিক সজল শীল সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে এলাকার সাধারণ মানুষদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, আর হাতের কাছেই এই ধরনের আধুনিক ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে খুশি শান্তিরবাজার মহকুমার বাসিন্দারা।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর’ যোজনার সূচনার মাধ্যমে শান্তিরবাজারে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যা ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
