দিনমজুর পরিবারের দারিদ্র্যের চাপ, ক্ষোভে-দুঃখে কীটনাশক পান ২৬ বছরের টোটন দাস; দমকলকর্মীদের তৎপরতায় প্রাণে রক্ষা পেয়ে চিকিৎসাধীন.
তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি: দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতা, সংসারের টানাপড়েন আর অভাবের বোঝা অনেক সময় সাধারণ মানুষের জীবনে এমন এক হতাশার আঁধার নেমে আনে, যা কখনও কখনও বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তেলিয়ামুড়া শহরে ঘটল এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। মাত্র ১০০ টাকার আবদার পূরণ না হওয়ায় কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করল এক যুবক। ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে চাঞ্চল্য এবং বেদনার স্রোত।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ সন্ধ্যায়, তেলিয়ামুড়া থানার সামনেই।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ডিএম কলোনি এলাকার ২৬ বছর বয়সী টোটন দাস কিছু ব্যক্তিগত খরচের জন্য মায়ের কাছে ১০০ টাকা দাবি করে। কিন্তু তার মা, যিনি প্রতিদিন ইট ভেঙে কোনোমতে সংসার চালান— দারিদ্র্যের চাপে সেই ১০০ টাকা দিতে অক্ষম হয়ে পড়েন। তবুও ছেলের আবদার আংশিক পূরণ করতে মাত্র ৪০ টাকা হাতে তুলে দেন।
কিন্তু সেই ৪০ টাকাতেও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে টোটন। আর ঠিক সেই হতাশা থেকেই সে ছুটে যায় বাজারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টোটন সরাসরি একটি কীটনাশক ওষুধের দোকানে গিয়ে ওই ৪০ টাকা দিয়ে এক বোতল কীটনাশক কিনে নেয়। এরপর সকলের সামনেই— ব্যস্ত বাজারের মাঝখানে— হঠাৎই সেই কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে।
পরিস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে পড়েন বাজারের লোকজন। তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় অগ্নিনির্বাপক দপ্তরে। দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে টোটন দাসকে উদ্ধার করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে চলছে তার জরুরি চিকিৎসা।
টোটনের মা কান্নাজড়িত গলায় জানান,
“আমি কি করে দেব ১০০ টাকা? ইট ভেঙে কতই বা পাই? তবুও তার হাতখরচের জন্য ৪০ টাকা দিলাম… আর সেই টাকা দিয়েই ছেলে বিষ খাবে— ভাবিনি কখনও।”
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দারিদ্র্য যে কীভাবে মানুষের মানসিক অবস্থা ভেঙে দিতে পারে, আজকের এই ঘটনা তার নির্মম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো হাসপাতালে আনা হওয়ায় যুবকটির প্রাণ বাঁচার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা আপাতত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা আবারও তুলে ধরছে— সমাজের আর্থিক সংকট ও মানসিক স্বাস্থ্যকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া দরকার। ক্ষুদ্র অর্থের অভাবও কখনও কখনও মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
