শিশু পাচারকারী সন্দেহে গণপিটুনি! তেলিয়ামুড়ার ইচারবিলে তীব্র উত্তেজনা।
সকালে শিশুদের সঙ্গে সন্দেহজনক আচরণে ক্ষুব্ধ জনতা; উত্তেজিত ভিড়ের গণপিটুনির জেরে গুরুতর জখম ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি—ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন।
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরা । রিপোর্ট- হিরণ্ময় রায়ঃ তেলিয়ামুড়া থানাধীন ইচারবিল ষোলঘরিয়া অঞ্চলে শনিবার সকালেই ঘটে গেল এমন এক চাঞ্চল্যকর ও উত্তেজনাকর ঘটনা, যা মুহূর্তেই পুরো এলাকায় অস্থিরতা ছড়িয়ে দেয়। শিশু পাচারকারী সন্দেহে একজন অপরিচিত যুবককে ধরে উত্তেজিত জনতা বেধড়ক মারধর করে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই গ্রামজুড়ে রটে যায় খবর, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই অপরিচিত ব্যক্তি এলাকার শিশুদের সঙ্গে বারবার সন্দেহজনক ভঙ্গিতে কথাবার্তা বলছিলেন। তার আচরণ দেখে সন্দেহ দানা বাঁধে বাসিন্দাদের মনে। ঠিক তখনই কয়েকজন যুবক তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং সংকেত পেয়ে অন্যান্যরা ছুটে এসে তাকে ঘিরে ধরে। ক্রমে উত্তেজিত জনতা রাস্তায় ফেলে শুরু করে নির্দয় প্রহার।
দীর্ঘক্ষণ ধরে চলতে থাকা গণপিটুনিতে গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। ঘটনাস্থলে কান্না, চিৎকার ও হৈচৈয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতার ভিড়ে পরিস্থিতি আরও অবনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
ঘটনার খবর তেলিয়ামুড়া থানায় পৌঁছাতেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চালায়। জনতাকে সরিয়ে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে তৎক্ষণাৎ তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আহত ব্যক্তি বিহার রাজ্যের বাসিন্দা। তিনি কেন, কোন উদ্দেশ্যে এই এলাকায় এসেছিলেন—তা জানতে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর ইচারবিল এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ভয়ে ঘরের বাইরে বেরোতে সাহস পাচ্ছেন না। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়—সচেতনতা যেমন জরুরি, তেমনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সম্পূর্ণ বেআইনি। সন্দেহ থাকলে আইনগত পথে বিষয়টি মোকাবিলা করাই সর্বোত্তম।
