মন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অনুমতি ছাড়া মিছিল ও সংখ্যালঘু মোর্চা সভাপতির বাড়িতে হামলার ঘটনার নিন্দায় শান্তি ও আইনের শাসনের দাবি।
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরা । হিরনময় রায়ঃ উত্তর মহারানী এলাকায় জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার বাসভবনের সামনে অনুমতি ছাড়াই বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত হওয়াকে কেন্দ্র করে তেলিয়ামুড়া ও আশপাশের এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, থানা প্রশাসনের কোনও পূর্বানুমতি না নিয়েই তিপ্রা মথার যুব সংগঠন ওয়াইটিএফ-এর কর্মী ও সমর্থকেরা হঠাৎ মিছিল নিয়ে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে উপস্থিত হন। এতে এলাকার স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয় এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিছিলের জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মন্ত্রীর বাসভবনের সামনে চলমান নির্মাণকাজে নিযুক্ত শ্রমিকেরা চরম আতঙ্কে কাজ বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই অভিযোগ করেন, অনুমতিহীন কর্মসূচির ফলে জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এর পাশাপাশি খোয়াই জেলার বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি রশিদ মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনাও নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই হামলায় পরিবারের একাধিক সদস্য আহত হন। এই ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।
এই দুই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিজেপির ২৯ কৃষ্ণপুর মণ্ডলের উদ্যোগে চাকমাঘাট এলাকায় একটি প্রতিবাদী মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি মণ্ডল কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে তুই মধু বাজার পরিক্রমা করে পুনরায় মণ্ডল কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। মশাল হাতে নিয়ে দলীয় কর্মী ও সমর্থকেরা সুশৃঙ্খলভাবে মিছিলে অংশ নেন।
মিছিল থেকে বক্তারা স্পষ্টভাবে জানান, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের নামে অনুমতিহীন কর্মসূচি গ্রহণ কিংবা ব্যক্তিগত বাসভবনে গিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার যে কোনও প্রচেষ্টার কঠোর নিন্দা জানিয়ে তাঁরা দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তোলেন।
এ দিনের মশাল মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণপুর মণ্ডলের সভাপতি ধনঞ্জয় দাস, সহ-সভাপতি গোপাল দাস-সহ মণ্ডলের অন্যান্য নেতৃত্ব ও বহু বিজেপি কর্মী। মিছিল থেকে একযোগে শান্তি, নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার আহ্বান জানানো হয়।
