সেকেন্ড ওসি অজিত দেববর্মার নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান, লক্ষাধিক টাকার গাঁজা বাগান নষ্ট।
তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি: নেশামুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ফের একবার বড়সড় সাফল্য পেল তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া নির্ভরযোগ্য খবরের ভিত্তিতে সোমবার তেলিয়ামুড়া থানা এলাকার লেম্বুছড়া অঞ্চলে এক ব্যাপক অভিযান চালায় পুলিশ। এই অভিযানে তিনটি পৃথক প্লটে অবৈধভাবে চাষ করা মোট প্রায় পাঁচশোটি গাঁজা গাছ ধ্বংস করা হয়।
এই নেশা বিরোধী অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন তেলিয়ামুড়া থানার সেকেন্ড অফিসার ইনচার্জ অজিত দেববর্মা। অভিযানে তাঁর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় সি.আর.পি.এফ, টি.এস.আর এবং তেলিয়ামুড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তেলিয়ামুড়া থানার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত জানা গেছে, এই অবৈধ গাঁজা বাগানটির মালিক বলে অভিযোগ রয়েছে প্রিয়লাল সরকারের বিরুদ্ধে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রিয়লাল সরকার ইতিমধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত। কয়েক বছর পূর্বে একই এলাকার জগদীশ সরকার নামে এক যুবককে ঘরের ভিতর বস্তাবন্দি করে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রিয়লাল সরকারের বোনের সঙ্গে জগদীশ সরকারের প্রণয়ঘটিত সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবারের অভিযানে ধ্বংস করা গাঁজা গাছগুলির বাজারমূল্য আনুমানিক এক থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা। সময়মতো এই অভিযান চালানো না হলে এই গাঁজা বাজারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
অভিযান প্রসঙ্গে তেলিয়ামুড়া থানার সেকেন্ড ওসি অজিত দেববর্মা জানান, তেলিয়ামুড়া থানা পুলিশ নেশা বিরোধী অভিযানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। নেশা কারবারের সঙ্গে যুক্ত কাউকে কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানান।
এই অভিযানের পর এলাকাবাসীর একাংশ পুলিশের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নেশা কারবার বন্ধ করতে প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
সব মিলিয়ে, লেম্বুছড়ায় চালানো এই অভিযান তেলিয়ামুড়া থানার নেশা বিরোধী লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
