জাতীয় সড়কে বিশেষ রোড সেফটি কার্যক্রম, ট্রাফিক নিয়ম মানতে চালকদের সচেতন করল মহকুমা প্রশাসন ও পুলিশ।
তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি: সারা দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে রোড সেফটি মাস। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করে এক্সিডেন্টের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই মাসব্যাপী নানা সচেতনতামূলক ও প্রশাসনিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। তারই অঙ্গ হিসেবে তেলিয়ামুড়া মহকুমা জুড়ে শুরু হয়েছে একাধিক রোড সেফটি উদ্যোগ, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
শুক্রবার তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্ভুক্ত তেলিয়ামুড়া থানাধীন আসাম–আগরতলা জাতীয় সড়কে চোখে পড়ল এমনই এক রোড সেফটি কার্যক্রম। জাতীয় সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাড়ি থামিয়ে চালকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে ট্রাফিক নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানোর বিষয়ে চালকদের সতর্ক করা হয়।
এই রোড সেফটি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তেলিয়ামুড়া মহকুমা অফিসের ডেপুটি কালেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট তথা ডিস্ট্রিক্ট ট্রান্সপোর্ট অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সন্দিপ দেববর্মা, তেলিয়ামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বিকাশ দেববর্মা, এমবিআই পুলিশসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা। সকলের সমন্বিত উপস্থিতিতে কর্মসূচিটি আরও কার্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডেপুটি কালেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট সন্দিপ দেববর্মা জানান, রোড সেফটি মাস পালনের মূল উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা। তিনি বলেন, “হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানো এবং নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চললে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, রোড সেফটি মাস শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। আগামী দিনগুলোতেও তেলিয়ামুড়া মহকুমার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এই ধরনের রোড সেফটি অভিযান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে পথচলতি সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেক চালকই প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে জানান, এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত হলে সড়কে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমবে এবং মানুষের জীবন আরও সুরক্ষিত হবে।
